ন্যানো ধাক্কায় ধরাসায়ী রাজ্য, কি করবে মমতার সরকার ? Nano hits to the State Government

ন্যানো ধাক্কায় ধরাসায়ী রাজ্য, কি করবে মমতার সরকার ? Nano hits to the State Government, Tata Nano Issues, Singur Andalone, Tata Nano Singur Issue

আট থেকে ৮০ বাংলা তথা ভারতবর্ষের সমস্ত লোকই জানে সিঙ্গুরের টাটা কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গেই উৎখাতের কাহিনী। চাষের জমিতে কারখানা করতে দেয়া যাবে না এই দাবিতে বিরোধী আসনে থাকাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের জন্যই শেষ পর্যন্ত তৎকালীন রাজ্য সরকারকে পিছু হটতে হয়েছিল। আর এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী ছিল সমগ্র দেশ। 

ন্যানো বিদায় হয়ে গেছে বহু আগে তার ফলাফল ও আমরা সকলেও দেখেছি। বিরোধী দলের প্রতিশ্রুতি চাষযোগ্য জমি ফিরিয়ে দেওয়ার এবং সেই জমিতে সর্ষের বীজ বপন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাশ পাঠ্যপুস্তকেও স্থান পেয়েছে সিঙ্গুর আন্দোলনের বিষয়।কিন্তু এখন তিন সদস্যের আরবিট্রাল ট্রাইবুনাল রায় দিয়েছে টাটার পক্ষে এবং সেই রায় বলা হয়েছে কমপক্ষে ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ রাজ্য সরকারকে দিতে হবে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বার্ষিক ১১ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই মামলা চলার পর রায় বের হয়।

tata nano photo

দীর্ঘ জোরদার আন্দোলনের জন্য টাটা ন্যানো রাজ্য থেকে বিদায় নিলেও ক্ষতিপূরণের দাবি করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে আরবিটাল টাইবুনালে। দীর্ঘ ১৫ বছর সেই মামলা বহু সুনামির পর চূড়ান্ত পর্যায়ে রায় ঘোষণা বা জারি করেছে যেটা ন্যানোর পক্ষে হয়েছে এবং রাজ্য সরকারের বিপক্ষে গেছে। ক্ষতিপূরণ বাবদ রাজ্য সরকারকে দিতে হবে ৭৬৬ কোটি টাকা এবং তার সহ ১১ শতাংশ হারে বার্ষিক সুদ দিতে হবে।

টাটা যেহেতু বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ন্যাশনাল স্টপস এক্সচেঞ্জ এ লিস্টেড কোম্পানি, শেয়ার মার্কেট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সেবির রুলস অনুযায়ী টাটা কোম্পানি তার আয় ব্যয়ের হিসাব পেশ করে উভয় এক্সচেঞ্জ এ, সেই অনুযায়ী টাটা মোটরস ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রাইবুনালের রায়ের কথা উল্লেখ করে। এখন বিষয় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজ্য সরকার দেবে কিভাবে বা দেবে কিনা না কোর্টে পুনরায় আপেল করবে রায় পুনঃবিবেচনা করার জন্য।

কি বা কে এই আরবিটাল ট্রাইবুনাল ?

একটি সালিসি ট্রাইব্যুনাল বা সালিসি ট্রাইব্যুনাল, এছাড়াও সালিশি কমিশন, সালিশ কমিটি বা সালিশি পরিষদ হল নিরপেক্ষ বিচারকারীদের একটি প্যানেল যা সালিশের মাধ্যমে একটি বিরোধের সমাধান করতে বসে। ট্রাইব্যুনালে একজন একমাত্র সালিস হতে পারে, অথবা দুই বা ততোধিক সালিসকারী থাকতে পারে, যার মধ্যে একজন চেয়ারপারসন বা একজন আম্পায়ার থাকতে পারে। একটি সালিশি প্যানেলে পরিবেশন করার জন্য নির্বাচিত সদস্যরা সাধারণত আইন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি (মধ্যস্থতা) উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষতার সাথে পেশাদার। কিছু পণ্ডিত পরামর্শ দিয়েছেন যে একটি সালিশি কমিশনের আদর্শ রচনায় অন্ততপক্ষে বিতর্কিত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একজন পেশাদারকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যে ক্ষেত্রে সম্পদের প্রশ্ন বা ক্ষতির মূল্যায়নের প্রশ্ন জড়িত থাকে উদাহরণস্বরূপ একজন অর্থনীতিবিদ।

WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

সালিসি ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা এবং গঠন নির্ধারণের জন্য সালিশিতে সম্মত হওয়া পক্ষগুলি সাধারণত স্বাধীন। অনেক বিচারব্যবস্থার সালিশে সাধারণ রায় সহ আইন রয়েছে, কোন চুক্তি না হলে কতজন সালিসকারীর ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত তা নিয়ে তারা ভিন্ন। কিছু আইনি ব্যবস্থায়, একটি সালিসি ধারা যা সমান সংখ্যক সালিসকারীদের জন্য সরবরাহ করে তা বোঝায় যে নিযুক্ত সালিসকারীরা অচলাবস্থা এড়াতে চেয়ারপারসন হিসাবে একজন অতিরিক্ত সালিসকে নির্বাচন করবেন।

 

Leave a Comment

Enable Notifications OK No thanks