Millets Crop : বিশ্ব তথা ভারতবর্ষের ভবিষ্যৎ শস্য বিকল্প মিলেট

Millets is the future alternative crop of the World as well as India বিশ্ব তথা ভারতবর্ষের ভবিষ্যৎ শস্য বিকল্প মিলেট : ভারতবর্ষ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এখানকার মোট জনসংখ্যার ৬০% মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মোট জিডিপির ১৮% কৃষি  থেকে আসে। এর পিছনে বিভিন্ন কারণ আছে। যত দিন যাচ্ছে তত কৃষিকাজ কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রধান দেশ ভারতবর্ষের কৃষকদের।

তার মধ্যে কতগুলি কারণ হল জল সংকট, কীটনাশকের অত্যাধিক ব্যবহারের জন্য মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা কখনো অতিবৃষ্টি কখনো অনাবৃষ্টি হচ্ছে, তাপমাত্রার তারতম্য হচ্ছে খুব, এত কিছু সত্বেও যদি কিছু ফসল ফলে তখন দেখা যায় ফসলের দাম ঠিকঠাক পাচ্ছে না কৃষক বিভিন্ন কারণের জন্য।

জোয়ার বাজরা রাগী এই গুলোকে একত্র মোটা শস্য বা মিলেট বলা হয়। ষাটের দশকে দুর্ভিক্ষের পর ভারত সরকার সবুজ বিপ্লবের প্রকল্প নেয় তৎকালীন সরকার। তখন থেকে চাল ও গম উৎপাদনের উপর জোর দেওয়া হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতির বদল আসে।

বর্তমানে দেশ তীব্র জলসঙ্কটের মধ্যে আছে। ধান ও গম উৎপাদনে প্রচুর পরিমাণে জল লাগে, এক কেজি চাল উৎপাদন করতে গেলে ১৯০০ থেকে ৫ হাজার লিটার পর্যন্ত জলের প্রয়োজন, এক কেজি গম উৎপাদনে লাগে ১২০০ থেকে ২০০০ লিটার জল, ১ কেজি আলু উৎপাদনে লাগে ৫০০ থেকে ১৫০০লিটার জল, বাজরা উৎপাদনের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে জল অনেকটাই কম লাগে। 

তবে সেই সময় নদী বৃষ্টির জল অর্থাৎ মাটির ওপরে জল ষাট শতাংশ ও ৪০ শতাংশ মাটির নিচের জল ব্যবহার করে চাষাবাদ হত কিন্তু বর্তমান অনাবৃষ্টি ও নদীতে জলের পরিমাণ কমে যাওয়ায় ৬০ শতাংশ মাটির নিচের জল ব্যবহার করা হচ্ছে যার জন্য একটা জল সংকট দেখা দিয়েছে ভারতবর্ষের যেসব রাজ্যগুলি গম ও চাল উৎপাদন বেশি করে। 

এইভাবে যদি ২০-৩০ বছর চলতে থাকে তাহলে আগামী দিনে তীব্র জল সংকট দেখা দেবে। আর আস্তে আস্তে আগের পরিস্থিতি দিকে এগিয়ে যেতে থাকবে দেশ। অর্থাৎ ভারতবর্ষ একটা মন্বন্তর বা দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাবে, বিরাট একটা খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হবে।

তাই যদি জোয়ার-ভাজা রাগী চাষের উপর জোর দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে এইসব চাষে জল অনেক কম লাগে কীটনাশক প্রায় লাগে না এবং আবহাওয়ার সঙ্গে এই চাষের সেই ভাবে কোন সম্পর্ক নেই, অনাবৃষ্টি হোক বা অতিবৃষ্টি হোক কোনো অসুবিধেই হয় না।

কীটনাশক ব্যবহার না করার জন্য মাটিও ভালো থাকবে এবং যা দেশবাসীর শরীরের পক্ষেও খুব উপকারী। জোয়ার-বাজরায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে এছাড়াও হাই ব্লাড প্রেসার ও সুগার রোগীদের জন্য এই শস্য খুব উপকারী, নিউট্রেশনযুক্ত ফুড বলা যেতে পারে।

WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে ভারতবাসী চাল গমের তৈরি খাবার ছেড়ে কি করে বাজরা তৈরি জিনিসপত্র খাবার অভ্যাস করবে। ষাটের দশকের আগে এই জোয়ার বাজরা খুব প্রচলন ছিল। বর্তমানে সরকার জোয়ার বাজারা চাষের উপর জোর দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

এখন ডাক্তারবাবু আপনার স্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি মিলেটকে রেফার না করলেও মিলেট থেকে উৎপন্ন হওয়া উখমা, ওটস, বিস্কিটস ও আরো অন্যান্য প্রসেসিং ফুড রেকমেন্ড করতে পারে। যেগুলো সম্পূর্ণরূপে মিলেট থেকে উৎপাদিত।

ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ডিসেম্বর ২০২২ এ UN কে প্রস্তাব দেয় 2023 কে আন্তর্জাতিক মিলেট ইয়ার হিসেবে ঘোষণা করতে। ওনার আবেদনে সাড়া দিয়ে UN ২০২৩ সালকে আন্তর্জাতিক মিলেট বৎসর ঘোষিত করে। ভারতবর্ষের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শংকর UN সেক্রেটারি সঙ্গে নিউইয়র্কে মিলেট লাঞ্চ করেছেন।

সর্বোপরি দেখা গেল মিলেটের ব্যবহার বাড়াতে পারলে দেশের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে দেশের কৃষকেরা বাঁচবে বিদেশে রপ্তানি করে বেশ কিছু বিদেশী মুদ্রাও আসবে এবং দেশবাসীর স্বাস্থ্যের পক্ষেও এটা যথেষ্ট উপকারী এবং ভবিষ্যতের দুর্ভিক্ষ ও জল সংকট থেকে বাঁচার বিকল্প হিসেবে মিলেটকে বেছে নেয়াই ভালো।

Leave a Comment

Enable Notifications OK No thanks