Maruti Suzuki : আপনি কি জানেন লটারি সিস্টেমে গাড়ি বেচত মারুতি! প্রথম কিনেছিলেন কে?

Maruti Suzuki : আপনি কি জানেন লটারি সিস্টেমে গাড়ি বেচত মারুতি! প্রথম কিনেছিলেন কে ?

বরাবরই মারুতি সুজুকির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সবথেকে সস্তায় গাড়ি বানানো। যা এখনও তারা মেনে চলছে। মধ্যবিত্ত গ্রাহকেরা যাতে গাড়ির শখ পূরণ করতে পারে সেই কথা ভেবেই বাজারে চার চাকা আনত মারুতি। যার ফলে উপচে পড়ত মানুষের ভিড়। এই চাহিদা পূরণ করতে 2000 সালে লটারি সিস্টেম নিয়ে আসে কোম্পানি।

1971 সালে ভারত সরকার চেয়েছিল জার্মান কোম্পানি Volkswagen এর সঙ্গে মারুতির অংশীদারিত্ব হোক। দেশে ‘পিপলস কার’ উদ্যোগ নিয়ে এসেছিল সরকার। কিন্তু জাপানের সুজুকি প্রথম এই পিপলস কারের ডিজাইন নিয়ে আসে ভারতে। তারপর থেকেই শুরু হয় মারুতি ও সুজুকির পথচলা।

80-এর দশকে মারুতি সুজুকির প্রথম গাড়ি ছিল Maruti 800। অনেকেই জানেন না, এই চার চাকা শুধু ভারত নয়, অন্যান্য দেশেও বিক্রি হত। তবে অন্য নামে। সুজুকি এই গাড়ি Fronte ও Alto নামে কেনা-বেচা করত।

ছোট সাইজের এই গাড়িতে 796 সিসির ইঞ্জিন ছিল সঙ্গে 4 স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স। 1983 সালে প্রথম উৎপাদন শুরু করে মারুতি সুজুকি। এই 40 বছরে অসংখ্য গাড়ি এনেছে কোম্পানি। তবে আশ্চর্য বিষয় হল, এর মধ্যে 90 শতাংশ গাড়ির দাম ছিল মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে।

কে কিনেছিল মারুতির প্রথম গাড়ি ?

47,500 টাকায় দেশে মারুতির প্রথম গাড়ি কিনেছিলেন দিল্লির বাসিন্দা হরপাল সিং। এই গাড়ির চাবি তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিলেন তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই গাড়িটি হরপাল সিং তাঁর শেষ জীবন অবধি ব্যবহার করে গিয়েছেন।

 

মারুতির লটারি সিস্টেম

হরপাল সিং মারুতির গাড়িটি পেয়েছিলেন একটি লাকি ড্র-এর মাধ্যমে। তবে সেটি কোনও লটারি সিস্টেম ছিল না। এই ব্যবস্থা 2000 সালে প্রথম নিয়ে আসে মারুতি সুজুকি। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সময় মারুতির গাড়ির চাহিদা ছিল আকাশছোঁয়া।

সেই সময় প্রতি বছর 1 লাখ গাড়ি তৈরি করত তারা। 2000 সালে লঞ্চ হয় Maruti 1000। এটির দাম ছিল 3.54 লাখ টাকা। যা সেই সময় বিরাট দাম মনে করা হত। তবুও মানুষের চাহিদা ছিল চোখে পরার মতো। এই অবস্থা দেখে লটারি সিস্টেম আনে কোম্পানি।

WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now
ভারতে টানা 37 বছর রাজ করেছে মারুতির এই গাড়ি

1983 সাল থেকে 2014 সাল পর্যন্ত মারুতি 800 এর উৎপাদন করে গেছে কোম্পানি। কারণ গোটা দেশে এই গাড়ির জনপ্রিয়তা ছিল সবথেকে বেশি। টানা 37 বছর ধরে বিক্রির নিরিখে শীর্ষে ছিল এই চার চাকা। যা সত্যি একটি বড় মাইলস্টোন।

অনেক ভারতীয়দের কাছে এই গাড়ি পরিবারের অংশ হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে এটি পাওয়া না গেলেও অনেকে স্মৃতি হিসাবে সংরক্ষণ করে রেখে দিয়েছেন মারুতি 800।

মারুতি সুজুকির যাত্রা : ভারতীয় স্বয়ংচালিত শিল্পের বিপ্লব

মারুতি সুজুকি, ভারতীয় স্বয়ংচালিত শিল্পের সমার্থক নাম, তার সূচনা থেকেই সাফল্য এবং রূপান্তরের একটি অসাধারণ গল্প তৈরি করেছে। 1981 সালে ভারত সরকার এবং জাপানের সুজুকি মোটর কর্পোরেশনের মধ্যে একটি যৌথ উদ্যোগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত, মারুতি সুজুকি ভারতের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী গাড়ি প্রস্তুতকারক হিসাবে বিকশিত হয়েছে। এই নিবন্ধটি মূল মাইলফলক, চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনগুলি অন্বেষণ করে যা মারুতি সুজুকির অসাধারণ যাত্রাকে রূপ দিয়েছে।

সূচনা এবং প্রারম্ভিক বছর :

মারুতি সুজুকির উৎপত্তি 1980-এর দশকের গোড়ার দিকে যখন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অধীনে ভারত সরকার দেশের স্বয়ংচালিত খাতকে আধুনিকীকরণের চেষ্টা করেছিল। সুজুকি মোটর কর্পোরেশনের সাথে যৌথ উদ্যোগের লক্ষ্য হল ভারতীয় বাজারে জ্বালানি-সাশ্রয়ী এবং সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়িগুলি প্রবর্তন করা। 1983 সালে, মারুতি সুজুকি তার প্রথম গাড়ি, Maruti 800 লঞ্চ করে, একটি কমপ্যাক্ট এবং অর্থনৈতিক গাড়ি যা দ্রুত ভারতীয় গ্রাহকদের হৃদয় দখল করে। এটি ছোট গাড়ির বিভাগে কোম্পানির আধিপত্যের সূচনা করে।

বাজারের আধিপত্য এবং সম্প্রসারণ :

মারুতি সুজুকির সাফল্য 1990 এবং 2000 এর দশক জুড়ে অব্যাহত ছিল। কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে নতুন মডেল প্রবর্তন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে Maruti Omni, Maruti Esteem, এবং Maruti Zen, প্রতিটিই বাজারের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করে। Maruti 800, যদিও, লক্ষ লক্ষ ভারতীয় পরিবারের জন্য একটি আইকনিক পছন্দ হিসেবে রয়ে গেছে এবং ব্র্যান্ডের নির্ভরযোগ্যতা এবং সামর্থ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

2000-এর দশকের গোড়ার দিকে মারুতি অল্টো লঞ্চ করা ছোট গাড়ির সেগমেন্টে লিডার হিসেবে কোম্পানির অবস্থানকে আরও মজবুত করে। মারুতি সুজুকির ভারতীয় ভোক্তাদের চাহিদা বোঝার উপর ফোকাস, দক্ষ উত্পাদন প্রক্রিয়ার সাথে মিলিত, কোম্পানিকে বাজারে তার শক্ত অবস্থান বজায় রাখার অনুমতি দেয়।


 

উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি :

প্রতিযোগিতামূলক স্বয়ংচালিত ল্যান্ডস্কেপে এগিয়ে থাকার জন্য মারুতি সুজুকি ধারাবাহিকভাবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি গ্রহণ করেছে। 2005 সালে মারুতি সুজুকি সুইফটের প্রবর্তন ডিজাইন, কর্মক্ষমতা এবং বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে একটি উল্লেখযোগ্য লাফ দিয়েছিল। সুইফ্ট একটি বেস্টসেলার হয়ে উঠেছে, তার খেলাধুলাপূর্ণ নান্দনিকতা এবং উন্নত প্রযুক্তির সাথে একটি অল্প বয়স্ক জনসংখ্যার কাছে আবেদন করে।

ভারতে ইউটিলিটি গাড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবেলায় কোম্পানিটি Maruti Suzuki Vitara Brezza-এর মতো মডেলগুলির সাথে কমপ্যাক্ট SUV সেগমেন্টেও উদ্যোগী হয়েছে৷ উপরন্তু, মারুতি সুজুকি হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রযুক্তি প্রবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, বিশ্বব্যাপী স্থায়িত্বের প্রবণতা এবং ক্লিনার পরিবহনের প্রচারে সরকারি উদ্যোগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

চ্যালেঞ্জ এবং স্থিতিস্থাপকতা :

যদিও মারুতি সুজুকি প্রচুর সাফল্য উপভোগ করেছে, যাত্রাটি চ্যালেঞ্জ ছাড়া ছিল না। ভারতীয় স্বয়ংচালিত শিল্প গ্রাহকদের পছন্দ, নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ওঠানামায় গতিশীল পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছে। Maruti Suzuki তার পণ্যের লাইনআপকে মানিয়ে নিয়ে, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করে এবং বক্ররেখায় এগিয়ে থাকার জন্য কৌশলগত অংশীদারিত্ব তৈরি করে এই চ্যালেঞ্জগুলিকে নেভিগেট করেছে৷

মারুতি সুজুকির গল্পটি সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং অভিযোজন ক্ষমতার রূপান্তরকারী শক্তির প্রমাণ। 1980-এর দশকের গোড়ার দিকে একটি নতুন যৌথ উদ্যোগ থেকে ভারতীয় মোটরগাড়ি বাজারে অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠা পর্যন্ত, মারুতি সুজুকি গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে স্থিতিস্থাপকতা এবং প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করেছে। স্বয়ংচালিত ল্যান্ডস্কেপ ক্রমাগত বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে, মারুতি সুজুকি একটি গতিশীল শক্তি হিসাবে রয়ে গেছে, যা ভারতে গতিশীলতার ভবিষ্যতকে রূপ দিচ্ছে।

Leave a Comment

Enable Notifications OK No thanks